দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকার মগবাজারে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পাঠানো নোটিশকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে এর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর হলিডে ইন হোটেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
শিশির মনির বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের জন্য যে নোটিশ দিয়েছে তা আইনসম্মত নয়। এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিনি জানান, ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে পেশাগত অবহেলার অভিযোগে দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবার ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবস্থান প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো এবং আদ্-দ্বীন হাসপাতাল উভয়েই চান না হাসপাতালটি বন্ধ হয়ে যাক বা ক্ষতিগ্রস্ত হোক।
তবে যারা এ ঘটনার জন্য দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
নিহত শিশুদের পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়ে শিশির মনির বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে আজীবন থাকবে। পরিবারের যোগ্য সদস্যদের চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা হবে এবং সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণও দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার জন্যও দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় ক্ষমাপ্রার্থী। যেভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে আচরণ করা হয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আদ্-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গভর্নিং বডির সভাপতি অধ্যাপক আব্দুর সবুর খানও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন।
তিনি জানান, এ ঘটনায় দায়ী দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তবে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
নিহত নবজাতকদের একজনের বাবা হাবিবুর রহমান বলেন, এটি ছিল আমার তৃতীয় সন্তান। প্রথম দুই সন্তানও একই হাসপাতালে স্বাভাবিকভাবে জন্ম নিয়েছিল এবং সেবায় সন্তুষ্ট থাকায় এবারও তিনি আদ্-দ্বীন হাসপাতালে এসেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা চাই হাসপাতালের ত্রুটিগুলো সংশোধন করা হোক এবং সেবা কার্যক্রম চালু থাকুক।
কেএম